গরিবের কুরবানির ঈদ

গরিবের কুরবানির ঈদ

গরিবের কুরবানির ঈদ

আজকে আমি আপনাদের সামনে যেই গল্পটি উপস্থাপন করবো,সেটা হলো গরিবের কুরবানির ঈদ।প্রতি বছর মাত্র দুইটা ঈদ আসে,তার মধ্যে কুরবানির ঈদ একটি।আর এই ঈদে অভাবীদের অভাবটা আমরা উপলব্ধি করতে পারি।একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন কেউ কিন্তু ইচ্ছে করে কারো কাছে হাত পাতে না।পরিস্থিতি তাকে হাত পাততে বাধ্য করে।গরিবের কুরবানির ঈদ খুবই কষ্টের হয়ে থাক।তারা ‍অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে ধনীদের দিকে কিন্তু আমরা ধনীরা  তাদেরকে সাহায্য করি না।বর্তমান সমাজে প্রায় সবাই অভাবীদেরকে ধনীরা উপেক্ষা করে।আজ তারা আমাদের সমাজে অবহেলিত।ধনীরা তাদেরকে পছন্দ করে না। গরিবরা তাদের কাছে গেলে  দূরদূর করে তারিয়ে দেয়।তারই প্রেক্ষাপটে আমার এই গল্পটি লেখা।

গরিবের কুরবানির ঈদ

একজন দরিদ্র বাবা তার সন্তানের খুশির জন্য অন্যের নিকট হাত পাততে ও একবিন্দু দিধা করে না।কারণ তার কাছে সবচেয়ে সেরা হাসিটা হচ্ছে তার সন্তানের মুখের হাসি।যাইহোক আমরা এবার গল্পের দিকে আসি।ঈদের দিন প্রায় আসর ঘনিয়ে এলো কিন্তু কোন বাড়ি থেকে তার জন্য একটুকরো ও গোশত পাঠানো হলো না।এদিকে তার সন্তান গোশত খাবে বলে বাহানা করে বসল,এখন বাবাদের আর কি করার অন্যের কাছে হাত পাতা ছাড়া।তাই সে এলাকার কিছু বিশিষ্ট লোকের বাড়ি যায়।একজন চেয়ারম্যান এর বাড়ি গিয়ে বলে,যদি একটু গোশত দিতেন তাহলে খুবই উপকার হতো।কিন্তু চেয়ারম্যান সাহেব বলল সব গোশত বিতরণ করা শেষ।

তাই তার নিকট কাউকে দেয়ার মত যথেষ্ট গোশত নেই।দরিদ্র লোকটি অন্য আরেকজন ব্যবসায়ীর বাড়ি যায় কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত সেখানে ও সে কোন ধরনের গোশত পায় নি।দরিদ্র লোকটি কোন উপায় না পেয়ে বাড়িতে ফিরে এলো।কিন্তু তার সন্তান তো আর বুঝবে না যে,গোশত না পেয়ে বাবার ভিতরটা কেমন লাগছে।ছোট বাচ্চা কি আর এতো কিছু বুঝে? আর বুজলেই কি এমন বাহানা করে বসে থাকতো? তারপর ধীরেধীরে রাত হয়ে আসলো কিন্তু তার বাড়িতে একটুকরা গোশত দেয়া কেউ প্রয়োজন মনে করলো না।

এদিকে মা গোশত আসবে বলে পিয়াজ,রসুন,আদা ইত্যাদি ধরনের মশলা তৈরী করে রাখলেন।এখন বাবা-মা বুজলেও ছোট বাচ্চা তো আর বুঝবে না।সে তো বাহানা করেই আছে সে গোশত খাবে।সে বলল যে,আমাদের পাশের বাসার সবাই গোশত খায় কিন্তু আমরা খাই না কেনো?এভাবে দেখতে দেখতে রাত প্রায় ৮ টা বেজে গেলো।হঠাৎ করে কে যেনো দরজার বাইরে থেকে ডাকছে।

বাবা বললেন কে? তখন লোকটি বলল যে,আমি রোস্তম।আমি রিক্সাওয়ালা রোস্তম।সে বলল ভাই শুনলাম আপনার বাসায় নাকি কেউ একটু গোশত ও পাঠায় না।সেজন্য আমার বউ আমাকে দিয়ে অল্প একটু গোশত আপনাদের জন্য পাঠিয়েছে।কি করবো বলেন আমিও তো আপনার মতই গরিব মানুষ।তখন বাবার চোখের কোনে নিজের অজন্তেই একটু পানি চলে আসে।

গরিবের কুরবানির ঈদ

তারপর রোস্তম চলে গেলো নিজের বাসায়।তখন ছোট বাচ্চা বাবার চোখের কোনে পানি দেখ বলল বাবা তুমি কাদছো কেনো?আমি গোশত খেতে চাই না।কিন্তু তুমি আর কেদো না।বাবা তখন বাচ্চাটাকে জড়িয়ে ধরে আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন।

এভাবেই অভাবী মানুষের জীবন চলতে থাকে।কিন্তু তাও বিত্তবানদের জন্য থেমে থাকে না।ধনীদের অচ্ছিত গরিবদেরকে সাহায্য করা।গরিব দের আপদে বিপদে তাদের পাশে থাকা।

Other Post: Eid Al-Adha। Eid Of The Sacrifice Of The poor

Share This Post
Have your say!
10

Customer Reviews

5
0%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
0
0%
    Showing 2 reviews
  1. Nice job
    0

    0

    You have already voted!

Leave a Reply

Thanks for submitting your comment!